ভর দুপুরে গরু বা ছাগল মাঠের আইলে বেধেঁ রাখলে, আইল চোরা নামক জিন তাদের ঘাড় ভেঙে হত্যা করে –এমনটাই গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত আছে । অঞ্চলভেদে জিনের নাম পরিবর্তিত হতে পারে ।
এরকম ঘটনার সত্যতা বিভিন্ন অনেক যায়গায় পাওয়া গিয়েছে, কিন্তু মিথের সাথে এর প্রকৃত ঘটনার সত্যতার পার্থক্য অনেক। চৈত্র –বৈশাখ বা অন্যান্য প্রচন্ড গরমের মাসে সাধারণত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে,যখন তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে এবং বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে । সাধারনত গরু, ছাগল সারা দিন রোদের প্রবল উত্তাপে খুটির সাথে বাধা থাকে এবং পর্যাপ্ত জলের যোগান সময় মতো না পেয়ে তাদের হিট স্ট্রোক হয় ফলে তারা ছটফট করে মারা যায় । মৃত্যুর আগে তারা দড়ি ছিড়ে ছুটে পালাতে চায় । দড়ি ছেড়ার জন্য মাথার শিং ব্যবহার করে থাকে অনেক সময় । এছাড়া মৃত্যুযন্ত্রনায় অস্থির হয়েও শিং মাটিতে ঢুকাতে পারে , মাটিকে মাথার উপরে তোলার জন্য (যেভাবে তারা শত্রুকে শিং এর সাহায্যে মাথার উপরে তোলে) । এলোপাতাড়ি ছটফট করার সময়েও শিং মাটিতে গেথে যেতে পারে ।একবার শিং শক্ত মাটিতে গেথে গেলে সেটা বের করা বেশ কষ্টকর । শিং বের করতে গিয়েই অনেক সময় গবাদিপশু তাদের ঘাড় ভেঙ্গে ফেলে । আর এই দৃশ্য দেখেই কুসংস্কার বশত অনেকে বলে জিন তাদের ঘাড় ভেঙে মাটিতে পুতে দিয়েছে।
গবাদি পশুর প্রতি একটু যত্নশীল হলে এই কাল্পনিক জিনের থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাদের চরানোর জায়গায় ছায়ার ব্যবস্থা করতে পারলে ভাল হয় । সারাদিন রোদের মধ্যে ফেলে না রেখে দিনের মধ্যে কয়েকবার এসে তাদের অবস্থা দেখে পানি খাইয়ে গেলে ভাল হয় । ৪ ঘন্টার বেশি গবাদি পশু রোদে থাকলে তার ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন