বোবা ভূতের কথা অনেকেই শুনেছেন । ঘুমের ভিতরে এই ভূত আক্রান্ত ব্যক্তির বুকের উপরে বসে তার গলা চেপে ধরে । ভূত টা দেখতে মানুষের মতই ,তবে গা ভর্তি লোম । বদ্ধ ঘরের ভিতরেও এরা ঢুকে পড়তে পারে ,কোন এক অলৌকিক উপায়ে ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কেও বোবায় ধরেছিল । তিনি তার বই “বলপয়েন্ট” এ এই গল্প লিপিবদ্ধ করেছেন । তার বর্ননা অনুযায়ী,তিনি পুরান ঢাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে দুপুরে ঘুমাচ্ছিলেন । এমন সময় তার রুমে একটা মা বোবা ভূত তার ২ টা বাচ্চা নিয়ে ঢুকল ।বোবা দেখতে মানুষের মতই,তবে ছোট । সারা শরীর লোমে আবৃত । তারা হুমায়ূন আহমেদের কাছে এসে তাকে সজাগ দেখতে পেয়ে চলে গেল । পুরোটা সময় তিনি (হুমায়ূন আহমেদ) স্থির হয়ে গিয়েছিলেন ।কিছুক্ষনের জন্য । নড়াচড়া বা চিৎকার করতে পারছিলেন না ।
যৌক্তিকভাবে , রুমের দরজা জানালা বদ্ধ থাকলে এই ধরনের কোন প্রানী আসতে পারে না । আর এমন কোন প্রানী নেই ,যার শরীরের অনু পরমানু গুলো আলাদা হয়ে গিয়ে একটু পরে আবার জোড়া লাগতে পারে । কাজেই মানুষের মত আকৃতি বিশিষ্ট বোবা ভূতের কোন অস্তিত্ব থাকার কথা নেই । মানুষ যা গল্প বানিয়েছি সেটা তার উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা । যারা সত্যি এই ধরনের বোবা ভূত দেখে , অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা আসলে স্বপ্নে এই ঘটনাতা দেখে । তারপরে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তারা বোবা ভূতটাকে রুমের ভেতরে খুজতে থাকে । না পেয়ে ভাবে , বোবা ভূতের অলৌকিক ক্ষমতা আছে । সে দরজা জানালা ভেদ করে চলে যেতে পারে ।
হুমায়ূন আহমেদ স্বপ্ন দেখেছিলেন কিনা ওই দিন নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না । তবে পুরান ঢাকায় প্রচুর বানর আছে । তারা মাঝে মাঝেই বাসা বাড়িতে ঢুকে পড়ে । তার গল্পের বর্ননা শুনে এই রকম কোন বানর ফ্যামিলির কথাই মনে হচ্ছে ।
তবে বোবায় ধরার পরে সাময়িকভাবে শরীর নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে ।
আমাদের ঘুমের মধ্যে ২টা পর্যায় আছে। এগুলো হল-
১) REM (Rapid Eye Movement)
২) Non REM (Non Rapid Eye Movement)
ঘুমের মধ্যে এ দুটি চক্র পর্যায়ক্রমে আমাদের মাঝে আসে। আমরা যদি কোনভাবে এই দুটি চক্রের মাঝের সময়ে জেগে যাই তখনই আমরা হাত-পা নাড়তে পারি না। কথা বলতে পারিনা। কারন আমাদের এই জেগে থাকা সম্পর্কে মস্তিষ্ক অবগত থাকেনা।মস্তিষ্কের মটর ফাংশনটা ওই মুহুর্তে কাজ করে না । এ ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর ঘুমে এই সময়কে অনেক সময় বলে মনে হতে পারে। এসময় কোনকিছু দেখা বা গন্ধ পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না, কারন মস্তিষ্ক তখন স্বপ্নের মত দৃশ্য তৈরি করে। এই সুযোগে অনেকে ভুত-প্রেত বা আধিভৌতিক দৃশ্য দেখে ফেলতে পারেন! কারন মস্তিষ্কে যখন অক্সিজেনের অভাব হয় তখন আমরা অস্বাভাবিক অনেক কিছু দেখতে পাই ,আমাদের নিজ নিজ মস্তিষ্কের প্যাটার্ন অনুযায়ী । চিকিৎসা পরিভাষায় এই অবস্থাকে বলে স্লিপ প্যারালাইসিস ।
আপনি নিজে ঘুমের মাঝে কোনদিন এইরকম পর্যায়ে জেগে উঠলে শান্তভাবে শুয়ে থাকুন । কয়েক সেকেন্ড বা বড়জোর কয়েক মিনিটের মাঝেই আপনি আবার নরমাল হয়ে যাবেন । তারপরে শান্তভাবে আবার ঘুমিয়ে পড়ুন । এমনকি আপনি স্লিপ প্যারালাইসিস অবস্থাতেই আবার ঘুমিয়ে পড়লেও কোন সমস্যা নেই । একটু পরে ঘুমের মাঝেই আপনার প্যারালাইসিস ভাব কেটে যাবে
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন