শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৪

গেছো ভূত


বট,তেতুল বা যেকোন বড় গাছের ক্ষেত্রেই সাধারনত আধি ভৌতিক গুজব প্রচলিত থাকে । বলা হয়ে থাকে , এই গাছে ভূত বসবাস করে । রাতের বেলা কেউ ওই গাছের নিচে ঘুমালে সেই ভূত শেষ রাতে তার গলা চেপে মেরে ফেলে ।

এই ধরনের গুজব এমনি এমনি ই তৈরি হই নি । কিছু ভিত্তি অবশ্যই রয়েছে । হতে পারে , কোন নির্দিষ্ট বটগাছের নিচে কেউ ঘুমালে পরদিন সকালে তার মৃত্যু বা অসূস্থতার ঘটনা বেশ নিয়মিত ঘটনা । গ্রামের মুরুব্বিরা এই ঘটনাগুলো দেখে নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে ফেলেছে যে, গাছে ভূত আছে ।

এবার আসুন দেখা যাক বট গাছের নিচে মানুষ রাতে ঘুমালে তার হঠাৎ করে মারা যাওয়ার কোন যৌক্তিক কারন আছে কি না ।

গাড়ির ইঞ্জিন চলার জন্য যেমন শক্তি দরকার হয় ,মানুষ ,গাছপালা বা সকল জীবিতি জিনিসপত্র চলার জন্যও শক্তি দরকার হয় । গাড়ি তার শক্তি পায় তেল পুড়িয়ে । মানুষ তার শক্তি পায় খাদ্য পুড়িয়ে । আমাদের প্রতিটি কোষের ভিতরে খাদ্য অক্সিজেনের সাহায্যে পোড়ানো হয় । ফলে আমরা শক্তি পাই । এই প্রক্রিয়া কে বলে শ্বসন ।

মানুষ খাদ্য খায় প্রাকৃতিক উৎস থেকে । তবে গাছের অন্য উৎস দরকার হয় না । নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে । এই প্রক্রিয়াকে বলে সালোক সংশ্লেষন ।

সালোক সংশ্লেষন করার জন্য আলো দরকার হয় প্রভাবক হিসেবে । এই জন্য সালোক সংশ্লেষন ঘটে শুধুমাত্র দিনের আলোতে । অপরদিকে শ্বসন চলতে থাকে দিন রাত ২৪ ঘন্টা ।

সালোক সংশ্লেষনে উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয় অক্সিজেন । অপরদিকে শ্বসনে উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয় কার্বন ডাই অক্সাইড ।দিনের বেলা গাছ থেকে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড দুইটাই নির্গত হয় (কার্বন ডাই অক্সাইডের তুলনায় অক্সিজেন নির্গত হয় অনেক বেশি করে,তাই কার্বন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতি তেমন ভাবে বোঝাই যায় না) । কিন্তু রাতের বেলা শুধু নির্গমন করে কার্বন ডাই অক্সাইড ।

এই কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসের চেয়ে ভারি । তাই তারা নিচের দিকে জমা হতে থাকে । বড় কোন বট বা তেতুল গাছের তলায় সারা রাত ধরে এভাবে অনেক কার্বন ডাই অক্সাইড জমা হয় । সন্ধ্যারাতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান কম থাকে । কিন্তু রাত যত বাড়তে থাকে , গ্যাসের পরিমান ও বাড়তে থাকে । কেউ যদি গাছের নিচে ঘুমায় , তাহলে সন্ধ্যারাতে তার তেমন কোন সমস্যা হবে না ,কিন্তু গভীর রাতে তার শ্বাস নিতে সমস্যা হবে ।একই সাথে তার অনেক গরম লাগা শুরু হবে (কারন কার্বন ডাই অক্সাইড তাপ ধরে রাখে )। তার দম বন্ধ হয়ে আসবে । ওই এলাকা ত্যাগ না করলে সে মারাও যেতে পারে ।

এই সমস্যা শুধুমাত্র বড় গাছের ক্ষেত্রে হয় ,যাদের অনেক পাতা আছে এবং অনেক বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয় । ছোট গাছে এই রকম সমস্যা হয় না ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন