শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৪

জিনের আছর


জিনের আছর,ভূতে ধরা,মা কালী ভর করা—এ গুলো সব একই ধরনের অসুখ । রোগী অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে । চিকিৎসার অংশ হিসেবে সাধারনত কবিরাজ বা ওঝা ডেকে আনা হয় । সেই কবিরাজ অমানুষিক অত্যাচারের মাধ্যমে চিকিৎসা চালায়,যার ফলে রোগীর শারীরিক অনেক ক্ষতি হয় এমনকি কখনো কখনো মারাও যায় । চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই রোগগুলো সিজোফ্রেনিয়ার একটি পর্যায় ।

বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে বিশেষত অশিক্ষিত মানুষদের মধ্যে এই রোগটি দেখা যায়।রোগী অলিক কিছু দেখে বা শোনে বা চিন্তা করে।অধিকাংশ সময়েই সে অডিটরী হ্যালুসিনেশনের শিকার হয়সে এমন কিছু শোনে যেটা আশেপাশের আর কেউ শুনতে পায় না।সে ভাবতে পারে কেউ তার সাথে সবসময় কথা বলছে/নিরদেশ দিচ্ছে ।আবার একাধিক মানুষ তার মাথার ভেতর বসে কথা বলছে,রোগী জাস্ট রানিং কমেন্ট্রির মত করে তাদের কথা শুনছে ,এমন উপসর্গও হতে পারে। সে ভাবতে পারে কেউ তার সাথে সবসময় কথা বলছে।অনেক একে গায়েবী আওয়াজ বলে অভিহিত করে।অলীক অনেক কিছুই সে দেখতে পারে।উদ্ভট অনেক কিছুই সে ক্রতে পারে।ধর্ম বা পরিবেশ অনুযায়ী কেউ আরবীতে সুরা কেরাত পড়া শুরু করতে পারে,কেউ বা জয় মা কালী বলে নাচানাচি করতে পারে। উপসর্গ দেখে বাংলাদেশের সকল ধরনের জিনে ধরা,ভুতে ধরা,আছর পড়া,নজর লাগা ,ভর করা ইত্যাদি সকল রোগ কেই সিজোফ্রেনিয়া ধরা যায়।


রোগের কারন বংশগত এবং পরিবেশগত।বংশে অতীতে কারো সিজোফ্রেনিয়া থাকলে সেই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের সম্ভাবনা থাকে।তবে বেশি প্রভাব পরিবেশের।ধর্মিয় বা আধ্যাত্মিক জগতের উপরে দৃড় বিশ্বাস তার মনে সিজোফ্রেনিয়ার বিজ বপন করে।ইসলামে বিশ্বাসী কোন তরুন তরুনীর উপর  কখনো মা কালী ভর করে না।আবার কোন হিব্দুর উপর মুসলমান জিনের আছর পড়তে দেখা যায় না।

দেখা যায় ,যে এলাকায় শিক্ষার হার কম,সেই এলাকার কমবয়সী রা এই রোগে আক্রান্ত হয়।
অশিক্ষিত মানুষদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে নতুন,অদ্ভুত বিষয় সহজে গ্রহন করতে পারে না।কোন নির্দিষ্ট ঘটনা বা তথ্য(কোন ভূত তাড়ানোর দৃশ্য,কোন প্যারানরমাল এক্টিভিটিজ,কোন ধর্মীয়/ সামাজিক মিথ অথবা এমঙ্কিছু যা সে ব্যাখ্যা করতে পারছে না) এই কিশোর কিশরীদের মস্তিষ্ক যখন আলোড়িত করে,তখন সে সর্বক্ষন এটা নিয়ে চিন্তা করতে থাকে।চিন্তা করে যখন কোন সলুশন পায় না তখন মস্তিষ্কে এম্ফেটামিন হরমোন নিসৃত হয়।এম্ফেটামিন আবার ডোপামিন নামক আরেক হরমোনকে  নিঃসরনের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।এই ডোপামিনের প্রভাবেই রোগি কাল্পনিক কথা শোনে,অবাস্তব জিনিস দেখে এবং অসম্ভব কাজ করতে পারে।
ধরা যাক ,কোন তরুনী দুপুরে গোছলের পরে বকুল গাছ তলায় বসেছিল।বিকালে তার মা তাকে ডেকে বল্ল,কেন সে বকুল তলায় বসেছিল?সে কি জানে না গোছলের পরে ভেজা চুলে বকুল তলায় বসলে জিনের নজর লাগে?তরুনী যদি অশিক্ষিত এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয় তাহলে এ ঘটনায় ওই তরূনীর মনে বেশ শক্ত একটা ভয় ঢুকে যাবে।(সে কুসন্সকার মুক্ত হলে একটুও ভয় পাবে না)রাতে হয়তো তার পরিবারের বয়স্ক দাদী নানী কারো কাছ থেকে সে কিছু জিনে ধরার গল্প শুনল,জিনে ধরলে মানুষ কি করে সে বিষয়ে তার কিছু ধারনা হল।এখন তার কাছে ভয়টা অনেক শক্ত হয়ে গেথে যাবে।তার ব্রেনে ডোপামিনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।পরের কয়েক দিনের মধ্যেই তার সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।এবং আক্রান্ত হয়ে সে সেই সব আচরন করার চেষ্টাই করবে ,যে কাজের ইনফরমেশন গুলা তার মাথায় আছে।(দাদীর কাছে শুনেছে জিনে ধরলে পুরুষ কন্থে কথা বলে।সে চাইবে গলা মোটা করে কথা বলতে।তার পাশের ঘরের আচারের ওপর হয়তো তার লোভ ছিল।সে আদেশ করবে আমাকে ওই ঘর থেকে আচার এনে খেতে দাও ইত্যাদি)।

নির্দিষ্ট কিছু ড্রাগের প্রভাবেও সিজোফ্রেনিয়া ঘটতে পারে।বিভিন্ন পূজা পারবনে নেশা করার পর অনেকের মধ্যে উন্মত্ততার ভাব আসে।ক্লান্তিহীন ভাবে সে তখন নাচ গান করতে পারে।অনেক অপ্রত্যাশিত আচরন ও করতে পারে সে তখন।

সিজোফ্রেনিয়ার প্রভাবে রোগীর সাময়িক ভাবে স্মৃতি ভ্রংশ হতে পারে।আবার কখনো কখনো শুধু নির্দিষ্ট কিছু স্মৃতিই তার মাথায় থেকে যায়।রোগী এ সময় নিজের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা পোষন করে।তার আশেপাশের পরিবেশে কি হচ্ছে সে এটা ধরতে পারে না।অসংলগ্ন কথা বার্তা বলে থাকে,যা স্বাভাবিক অবস্থায় তার বলার কথা না।এমনকি এ অবস্থায় তার গলার স্বর ও পরিবর্তিত হতে পারে।চূড়ান্ত অবস্থায় রোগী নিজের বা অন্যদের শারীরিক ক্ষতি করতে পারে।তার শারীরিক শক্তি এ সময় অনেক বেশি বলে মনে হতে থাকে।বা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে সে অনেক বেশি কাজ করতে পারে এ সময়।

convulsion
রোগের কিছু কিছু উপসর্গও এই ধরনের জিনের আছরের সাথে মিলে যায় । কনভালশনের ক্ষেত্রে রোগীর শরীর কাপতে থাকে , তাদের মুখ দিয়ে ফেনা বের হয় এবং কিছুক্ষন পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে । এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যাপার । এর সাথে ভৌতিক কোন ব্যাপার না ।চিকিৎসা করালে এ রোগ সম্পুর্ন সেরে যায় ।

এ রকম ক্ষেত্রে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে । সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী পুরোপুরি ই সূস্থ হয়ে উঠবে । কোনভাবেই কবিরাজদের শরনাপন্ন হওয়া উচিত না ।
রোগী যেন নিজেই নিজের কোন শারীরিক ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ।


গেছো ভূত


বট,তেতুল বা যেকোন বড় গাছের ক্ষেত্রেই সাধারনত আধি ভৌতিক গুজব প্রচলিত থাকে । বলা হয়ে থাকে , এই গাছে ভূত বসবাস করে । রাতের বেলা কেউ ওই গাছের নিচে ঘুমালে সেই ভূত শেষ রাতে তার গলা চেপে মেরে ফেলে ।

এই ধরনের গুজব এমনি এমনি ই তৈরি হই নি । কিছু ভিত্তি অবশ্যই রয়েছে । হতে পারে , কোন নির্দিষ্ট বটগাছের নিচে কেউ ঘুমালে পরদিন সকালে তার মৃত্যু বা অসূস্থতার ঘটনা বেশ নিয়মিত ঘটনা । গ্রামের মুরুব্বিরা এই ঘটনাগুলো দেখে নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে ফেলেছে যে, গাছে ভূত আছে ।

এবার আসুন দেখা যাক বট গাছের নিচে মানুষ রাতে ঘুমালে তার হঠাৎ করে মারা যাওয়ার কোন যৌক্তিক কারন আছে কি না ।

গাড়ির ইঞ্জিন চলার জন্য যেমন শক্তি দরকার হয় ,মানুষ ,গাছপালা বা সকল জীবিতি জিনিসপত্র চলার জন্যও শক্তি দরকার হয় । গাড়ি তার শক্তি পায় তেল পুড়িয়ে । মানুষ তার শক্তি পায় খাদ্য পুড়িয়ে । আমাদের প্রতিটি কোষের ভিতরে খাদ্য অক্সিজেনের সাহায্যে পোড়ানো হয় । ফলে আমরা শক্তি পাই । এই প্রক্রিয়া কে বলে শ্বসন ।

মানুষ খাদ্য খায় প্রাকৃতিক উৎস থেকে । তবে গাছের অন্য উৎস দরকার হয় না । নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে । এই প্রক্রিয়াকে বলে সালোক সংশ্লেষন ।

সালোক সংশ্লেষন করার জন্য আলো দরকার হয় প্রভাবক হিসেবে । এই জন্য সালোক সংশ্লেষন ঘটে শুধুমাত্র দিনের আলোতে । অপরদিকে শ্বসন চলতে থাকে দিন রাত ২৪ ঘন্টা ।

সালোক সংশ্লেষনে উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয় অক্সিজেন । অপরদিকে শ্বসনে উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয় কার্বন ডাই অক্সাইড ।দিনের বেলা গাছ থেকে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড দুইটাই নির্গত হয় (কার্বন ডাই অক্সাইডের তুলনায় অক্সিজেন নির্গত হয় অনেক বেশি করে,তাই কার্বন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতি তেমন ভাবে বোঝাই যায় না) । কিন্তু রাতের বেলা শুধু নির্গমন করে কার্বন ডাই অক্সাইড ।

এই কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসের চেয়ে ভারি । তাই তারা নিচের দিকে জমা হতে থাকে । বড় কোন বট বা তেতুল গাছের তলায় সারা রাত ধরে এভাবে অনেক কার্বন ডাই অক্সাইড জমা হয় । সন্ধ্যারাতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান কম থাকে । কিন্তু রাত যত বাড়তে থাকে , গ্যাসের পরিমান ও বাড়তে থাকে । কেউ যদি গাছের নিচে ঘুমায় , তাহলে সন্ধ্যারাতে তার তেমন কোন সমস্যা হবে না ,কিন্তু গভীর রাতে তার শ্বাস নিতে সমস্যা হবে ।একই সাথে তার অনেক গরম লাগা শুরু হবে (কারন কার্বন ডাই অক্সাইড তাপ ধরে রাখে )। তার দম বন্ধ হয়ে আসবে । ওই এলাকা ত্যাগ না করলে সে মারাও যেতে পারে ।

এই সমস্যা শুধুমাত্র বড় গাছের ক্ষেত্রে হয় ,যাদের অনেক পাতা আছে এবং অনেক বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয় । ছোট গাছে এই রকম সমস্যা হয় না ।

বোবা ভূত



বোবা ভূতের কথা অনেকেই শুনেছেন । ঘুমের ভিতরে এই ভূত আক্রান্ত ব্যক্তির বুকের উপরে বসে তার গলা চেপে ধরে । ভূত টা দেখতে মানুষের মতই ,তবে গা ভর্তি লোম । বদ্ধ ঘরের ভিতরেও এরা ঢুকে পড়তে পারে ,কোন এক অলৌকিক উপায়ে ।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কেও বোবায় ধরেছিল । তিনি তার বই “বলপয়েন্ট” এ এই গল্প লিপিবদ্ধ করেছেন । তার বর্ননা অনুযায়ী,তিনি পুরান ঢাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে দুপুরে ঘুমাচ্ছিলেন । এমন সময় তার রুমে একটা মা বোবা ভূত তার ২ টা বাচ্চা নিয়ে ঢুকল ।বোবা দেখতে মানুষের মতই,তবে ছোট । সারা শরীর লোমে আবৃত । তারা হুমায়ূন আহমেদের কাছে এসে তাকে সজাগ দেখতে পেয়ে চলে গেল । পুরোটা সময় তিনি (হুমায়ূন আহমেদ) স্থির হয়ে গিয়েছিলেন ।কিছুক্ষনের জন্য । নড়াচড়া বা চিৎকার করতে পারছিলেন না ।

যৌক্তিকভাবে , রুমের দরজা জানালা বদ্ধ থাকলে এই ধরনের কোন প্রানী আসতে পারে না । আর এমন কোন প্রানী নেই ,যার শরীরের অনু পরমানু গুলো আলাদা হয়ে গিয়ে একটু পরে আবার জোড়া লাগতে পারে । কাজেই মানুষের মত আকৃতি বিশিষ্ট বোবা ভূতের কোন অস্তিত্ব থাকার কথা নেই । মানুষ যা গল্প বানিয়েছি সেটা তার উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা । যারা সত্যি এই ধরনের বোবা ভূত দেখে , অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা আসলে স্বপ্নে এই ঘটনাতা দেখে । তারপরে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তারা বোবা ভূতটাকে রুমের ভেতরে খুজতে থাকে । না পেয়ে ভাবে , বোবা ভূতের অলৌকিক ক্ষমতা আছে । সে দরজা জানালা ভেদ করে চলে যেতে পারে ।

হুমায়ূন আহমেদ স্বপ্ন দেখেছিলেন কিনা ওই দিন নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না । তবে পুরান ঢাকায় প্রচুর বানর আছে । তারা মাঝে মাঝেই বাসা বাড়িতে ঢুকে পড়ে । তার গল্পের বর্ননা শুনে এই রকম কোন বানর ফ্যামিলির কথাই মনে হচ্ছে ।

তবে বোবায় ধরার পরে সাময়িকভাবে শরীর নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে ।

আমাদের ঘুমের মধ্যে ২টা পর্যায় আছে। এগুলো হল-
) REM (Rapid Eye Movement)
) Non REM (Non Rapid Eye Movement)
ঘুমের মধ্যে দুটি চক্র পর্যায়ক্রমে আমাদের মাঝে আসে। আমরা যদি কোনভাবে এই দুটি চক্রের মাঝের সময়ে জেগে যাই তখনই আমরা হাত-পা নাড়তে পারি না। কথা বলতে পারিনা। কারন আমাদের এই জেগে থাকা সম্পর্কে মস্তিষ্ক অবগত থাকেনা।মস্তিষ্কের মটর ফাংশনটা ওই মুহুর্তে কাজ করে না ।   ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর ঘুমে এই সময়কে অনেক সময় বলে মনে হতে পারে। এসময় কোনকিছু দেখা বা গন্ধ পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না, কারন মস্তিষ্ক তখন স্বপ্নের মত দৃশ্য তৈরি করে। এই সুযোগে অনেকে ভুত-প্রেত বা আধিভৌতিক দৃশ্য দেখে ফেলতে পারেন! কারন মস্তিষ্কে যখন অক্সিজেনের অভাব হয় তখন আমরা অস্বাভাবিক অনেক কিছু দেখতে পাই ,আমাদের নিজ নিজ মস্তিষ্কের প্যাটার্ন অনুযায়ী । চিকিৎসা পরিভাষায় এই অবস্থাকে বলে স্লিপ প্যারালাইসিস ।

আপনি নিজে ঘুমের মাঝে কোনদিন এইরকম পর্যায়ে জেগে উঠলে শান্তভাবে শুয়ে থাকুন । কয়েক সেকেন্ড বা বড়জোর কয়েক মিনিটের মাঝেই আপনি আবার নরমাল হয়ে যাবেন । তারপরে শান্তভাবে আবার ঘুমিয়ে পড়ুন । এমনকি আপনি স্লিপ প্যারালাইসিস অবস্থাতেই আবার ঘুমিয়ে পড়লেও কোন সমস্যা নেই । একটু পরে ঘুমের মাঝেই আপনার প্যারালাইসিস ভাব কেটে যাবে